তবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি এখনই পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না। হরমুজ প্রণালির মূল রুটের মাঝে প্রায় ৮০টি সামুদ্রিক মাইন পেতে রাখা হয়েছে বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। এসব মাইন পুরোপুরি না সরানো পর্যন্ত নিরাপদ নৌযান চলাচল সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ট্যাংকার মালিকদের স্বাধীন বাণিজ্যিক সংগঠন ইন্টারট্যাংকো। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ইন্টারট্যাংকোর সামুদ্রিক বিষয়ক পরিচালক ফিল বেলচার এ পরিস্থিতিকে একটি মহাসড়কের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি জানান, এটি এমন একটি মহাসড়ক, যার মাঝখানের মূল রাস্তাটি বন্ধ রয়েছে ও গাড়িগুলো বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে (হার্ড শোল্ডার) চলাচল করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালীন ওমানের সীমান্ত ঘেঁষা ট্রাফিক সেপারেশন স্কিমে এসব মাইন স্থাপন করেছিল তেহরান। মূল রুট বন্ধ থাকায় জাহাজগুলো ওমান উপকূলের খুব কাছ দিয়ে অত্যন্ত সরু পথ ব্যবহার করছে। পাহাড়ি ও পাথুরে এ অঞ্চলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজগুলোর নিচে পাথর লেগে আটকে যাওয়ার (গ্রাউন্ডিং) তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া একসঙ্গে অনেক জাহাজ সরু পথ দিয়ে যাওয়ায় মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত ও বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের ২০ শতাংশ এ পথ দিয়েই সরবরাহ হতো। বর্তমানে গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৬০০টি জাহাজ পারাপারের অপেক্ষায় পারস্য উপসাগরে নোঙর করে আছে। ফলে বিশাল জট বা ব্যাকলগ কাটাতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্টের প্রধান সম্পাদক রিচার্ড মিড জানান, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নজিরবিহীন। চলতি বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। ২০২১ সালে সুয়েজ খালে ‘এভার গিভেন’ জাহাজ আটকে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সংকট তার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী, ইরান আগামী ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে কোনো টোল বা ফি নিতে পারবে না। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে চলাচল ব্যবস্থা উন্নত করবে। তবে তেহরান জানিয়েছে, ৬০ দিন পর নৌপথটির ব্যবস্থাপনা খরচ তোলার জন্য জাহাজের ওপর ফি ধার্য করবে।
প্রতিবেদন বলছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মুক্ত সাগরে এ ধরনের টোল আদায় অবৈধ। জার্মান শিপিং কোম্পানি হ্যাপাগ-লয়েডের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, সুয়েজ বা পানামা খালের মতো বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হরমুজ প্রণালিতে হয়নি, তাই এখানে ফি নেয়া অন্যায্য।
সামুদ্রিক শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, ইরান ফি আদায় শুরু করলে মালাক্কা বা তাইওয়ান প্রণালির মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথেও একই ধরনের ‘অবৈধ’ টোল আদায়ের নজির তৈরি করতে পারে।